কোরবানি ২০২৬

কোরবানি ২০২৬

কোরবানি ২০২৬: পশু কেনা, জবাইয়ের নিয়ম ও হজের সম্পূর্ণ গাইড

কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মুসলমান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবানি দিয়ে হযরত ইবরাহিম (আ.) এর মহান ত্যাগের স্মৃতি স্মরণ করেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না কোরবানি ২০২৬ কত তারিখে, কোন পশু দিয়ে কোরবানি করা যাবে, পশুর বয়স কত হতে হবে, জবাইয়ের সঠিক নিয়ম কী, এবং গোশত কীভাবে ভাগ করতে হবে।

এই আর্টিকেলে কোরবানির সম্পূর্ণ গাইড এবং হজের গুরুত্বপূর্ণ নিয়মকানুন একসাথে সহজ বাংলায় তুলে ধরা হয়েছে, যাতে আপনি কোনো ভুল ছাড়াই এই মহান ইবাদত আদায় করতে পারেন।


সূচিপত্র

  1. কোরবানি ২০২৬ কত তারিখে?
  2. কোরবানি কী এবং কেন দেওয়া হয়?
  3. কোরবানি কার উপর ওয়াজিব?
  4. কোন পশু দিয়ে কোরবানি করা যায়?
  5. পশুর বয়স ও শর্তাবলি
  6. কোরবানির পশু কেনার আগে যা যাচাই করবেন
  7. ভাগে কোরবানি দেওয়ার নিয়ম
  8. পশু জবাইয়ের নিয়ম ও দোয়া
  9. গোশত বণ্টনের নিয়ম
  10. চামড়ার বিধান
  11. হজ ২০২৬ — গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও প্রস্তুতি
  12. সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
  13. শেষ কথা

কোরবানি ২০২৬ কত তারিখে?

২০২৬ সালে কোরবানির ঈদ (ঈদুল আযহা) বাংলাদেশে ২৮ মে ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) তারিখে পালিত হবে। বাংলাদেশ সরকার ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, ১০ জিলহজ ফজরের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত কোরবানি দেওয়া যায়। অর্থাৎ কোরবানির জন্য আপনার হাতে তিনটি দিন থাকে।

📅 কোরবানির দিন: ১০, ১১ ও ১২ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি
🗓️ তারিখ: ২৮, ২৯, ও ৩০ মে ২০২৬
🏖️ সরকারি ছুটি: ২৫ মে — ৩১ মে ২০২৬


কোরবানি কী এবং কেন দেওয়া হয়?

কোরবানি শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো “নৈকট্য অর্জন করা” বা “কাছে যাওয়া।” ইসলামের পরিভাষায়, জিলহজ মাসের নির্দিষ্ট দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে শরিয়তের বিধান মেনে নির্দিষ্ট পশু জবাই করাকে কোরবানি বলে।

কোরবানির পেছনে রয়েছে হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর অতুলনীয় ত্যাগের ইতিহাস। আল্লাহর নির্দেশে তিনি তাঁর প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। আল্লাহ তাঁর ত্যাগ কবুল করে একটি দুম্বা পাঠিয়ে দেন। সেই ঘটনার স্মরণেই প্রতি বছর পশু কোরবানি দেওয়া হয়।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন:

“সুতরাং তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ো এবং কোরবানি করো।”
— সূরা আল-কাউসার (১০৮:২)


কোরবানি কার উপর ওয়াজিব?

যে ব্যক্তির মধ্যে নিচের শর্তগুলো পূর্ণ হবে, তার উপর কোরবানি ওয়াজিব:

  • ✅ মুসলমান হওয়া
  • ✅ প্রাপ্তবয়স্ক (সাবালক) হওয়া
  • ✅ সুস্থ বিবেকসম্পন্ন হওয়া
  • ✅ মুকিম হওয়া (মুসাফির অবস্থায় ওয়াজিব নয়)
  • ✅ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া অর্থাৎ সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা সমপরিমাণ নগদ অর্থের মালিক হওয়া। মানে প্রায় ৪৫,০০০ টাকা থেকে ৫০,০০০ টাকার মতো (রুপার দামের ওঠানামার কারণে কিছুটা কম-বেশি হয়)।

পরিবারের প্রধানের কোরবানিতে পরিবারের অন্য সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত হন না। প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে আলাদাভাবে কোরবানি দিতে হবে। হ্যাঁ তবে যদি তিনি অন্যদের নামে দিয়ে দেন যেমন একটা গরুতে সাত জন শরিক হতে পারেন। তিনি যদি নিজের নামে একটি অংশ ধরে বাকি ছয়টি অংশ ৬ জনের জন্য বরাদ্দ করে দেন তাহলে তাদের পক্ষ থেকেও কোরবানি হয়ে যাবে


কোন পশু দিয়ে কোরবানি করা যায়?

ইসলামের বিধান অনুযায়ী মাত্র ছয় ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি করা জায়েজ:

পশুকোরবানি করা যায়?কতজনের জন্য?
ছাগল✅ হ্যাঁ১ জন
ভেড়া✅ হ্যাঁ১ জন
দুম্বা✅ হ্যাঁ১ জন
গরু✅ হ্যাঁসর্বোচ্চ ৭ জন
মহিষ✅ হ্যাঁসর্বোচ্চ ৭ জন
উট✅ হ্যাঁসর্বোচ্চ ৭ জন

এই ছয়টি ছাড়া অন্য কোনো পশু — যেমন মুরগি, হাঁস, কবুতর, হরিণ ইত্যাদি দিয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়।


পশুর বয়স ও শর্তাবলি

কোরবানির পশুর বয়স একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। বয়সের শর্ত পূরণ না হলে কোরবানি সহিহ হবে না।

🐄 বয়সের শর্ত:

  • ছাগল, ভেড়া, দুম্বা: কমপক্ষে ১ বছর পূর্ণ হতে হবে
  • গরু ও মহিষ: কমপক্ষে ২ বছর পূর্ণ হতে হবে
  • উট: কমপক্ষে ৫ বছর পূর্ণ হতে হবে

🐄 পশুর দোষ যা থাকলে কোরবানি হবে না:

  • ❌ অন্ধ পশু — যার দৃষ্টিহীনতা স্পষ্ট
  • ❌ এতটাই দুর্বল-রোগা যে হাড় পর্যন্ত দেখা যায়
  • ❌ এমন খোঁড়া পশু যে কোরবানির স্থানে হেঁটে যেতে পারে না
  • ❌ এমন কানকাটা বা কানছিদ্র পশু যার এক-তৃতীয়াংশ কান নেই
  • ❌ লেজ কাটা — এক-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি কাটা থাকলে

🐄 এই দোষগুলো থাকলেও কোরবানি সহিহ হয়:

  • ✅ শিং নেই বা শিং ভাঙা (যদি গোড়া না ভাঙে)
  • ✅ জন্মগতভাবে কান ছোট
  • ✅ বন্ধ্যা পশু
  • ✅ খাসি করা পশু

কোরবানির পশু কেনার আগে যা যাচাই করবেন

হাট থেকে পশু কেনার সময় অনেকেই প্রতারিত হন। নিচের বিষয়গুলো যাচাই করে নিলে সঠিক পশু কেনা সহজ হবে:

✅ ১. বয়স যাচাই করুন

গরুর ক্ষেত্রে দাঁত দেখে বয়স যাচাই করা যায়। দুই বছর বয়সী গরুর সামনের দুটি স্থায়ী দাঁত উঠে থাকে। বিশ্বস্ত বিক্রেতা বা পশু চিকিৎসকের সাহায্য নিন।

✅ ২. সুস্থতা পরীক্ষা করুন

পশুর চোখ উজ্জ্বল কিনা, নাক পরিষ্কার কিনা, হাঁটাচলা স্বাভাবিক কিনা, শ্বাসপ্রশ্বাস ঠিকঠাক কিনা — এগুলো দেখুন। রোগা বা অসুস্থ পশু কোরবানি শুদ্ধ হয় না।

✅ ৩. ইনজেকশন/স্টেরয়েড দেওয়া কিনা জানুন

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পশুকে মোটা দেখাতে স্টেরয়েড বা পানি ইনজেকশন দেন। এ ধরনের পশু সাময়িক মোটা দেখালেও আসলে অসুস্থ। কেনার আগে বিশ্বস্ত সূত্র থেকে নিশ্চিত হন।

✅ ৪. অনলাইনে পশু কেনার সময় সতর্কতা

বর্তমানে অনেকে অনলাইনে কোরবানির পশু কেনেন। এ ক্ষেত্রে — ভিডিও কল করে পশু দেখুন, পেমেন্ট আগে না দিয়ে ডেলিভারি পেয়ে দিন, এবং বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করুন।

✅ ৫. আগেভাগে কিনুন

ঈদের এক সপ্তাহ আগে পশুর দাম সর্বোচ্চ থাকে এবং ভালো পশু পাওয়া কঠিন হয়। ঈদের ১০-১৫ দিন আগে পশু কিনলে ভালো পশু তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়।


ভাগে কোরবানি দেওয়ার নিয়ম

গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ সাতজন মিলে ভাগে কোরবানি দিতে পারেন। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আছে:

  • প্রতিটি ভাগীদারের নিয়ত সহিহ থাকতে হবে — শুধু গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে ভাগ নেওয়া যাবে না
  • প্রতিটি ভাগের পরিমাণ সমান হতে হবে। কেউ এক-সপ্তমাংশের কম নিতে পারবেন না
  • সকলেই মুসলমান হতে হবে
  • ভাগীদারদের মধ্যে একজনও যদি হারাম উদ্দেশ্যে ভাগ নেন, তাহলে সকলের কোরবানি নষ্ট হয়ে যাবে

পশু জবাইয়ের নিয়ম ও দোয়া

পশু কোরবানি দেওয়ার আগে ও পরে নির্দিষ্ট নিয়ম ও দোয়া মেনে চলা ইসলামের নির্দেশ।

📌 জবাইয়ের আগের নিয়ম:

  • পশুকে কিবলামুখী শোয়ান
  • ধারালো ছুরি ব্যবহার করুন — ভোঁতা ছুরিতে পশুর কষ্ট বাড়ে
  • পশুর সামনে ছুরি ধার করবেন না
  • এক পশুর সামনে আরেক পশু জবাই করবেন না

📌 জবাইয়ের সময়ের দোয়া:

পশু শোয়ানোর পর এই দোয়া পড়ুন:

আরবি: إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ، إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ

বাংলা উচ্চারণ: ইন্নি ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযি ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানিফাও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকিন। ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়ায়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। লা শারিকা লাহু ওয়া বিযালিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমিন।

এরপর ছুরি চালানোর সময় বলুন:

بِسْمِ اللهِ اللهُ أَكْبَر
বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার

জবাইয়ের পর বলুন:

اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنِّي كَمَا تَقَبَّلْتَ مِنْ خَلِيلِكَ إِبْرَاهِيمَ وَحَبِيبِكَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা তাকাব্বাল মিন্নি কামা তাকাব্বালতা মিন খালিলিকা ইবরাহিমা ওয়া হাবিবিকা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন, যেমন আপনি আপনার বন্ধু ইবরাহিম ও আপনার প্রিয় হাবিব মুহাম্মাদ (সা.)-এর পক্ষ থেকে কবুল করেছিলেন।


গোশত বণ্টনের নিয়ম

কোরবানির গোশত তিনভাগে ভাগ করা সুন্নত:

ভাগপরিমাণকার জন্য
১ম ভাগএক-তৃতীয়াংশনিজের পরিবারের জন্য রাখুন
২য় ভাগএক-তৃতীয়াংশআত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের দিন
৩য় ভাগএক-তৃতীয়াংশগরিব-মিসকিনদের মাঝে বিতরণ করুন

তবে পুরো গোশত নিজে রেখে দেওয়াও জায়েজ। এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয় — তবে সুন্নত ও উত্তম।

মনে রাখুন: গোশতের কোনো অংশ কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যাবে না। কসাইকে আলাদাভাবে পারিশ্রমিক দিতে হবে।


চামড়ার বিধান

কোরবানির পশুর চামড়া গরিব ও মিসকিনদের হক। এটি নিজে ব্যবহার করা যায়, তবে বিক্রি করলে পুরো অর্থ সদকা করতে হবে।

  • চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে মসজিদ, মাদ্রাসা বা এতিমখানায় দান করা যাবে
  • কোনো অবস্থায়ই চামড়ার মূল্য ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যাবে না
  • চামড়া নষ্ট করা বা ফেলে দেওয়া গুনাহের কাজ

হজ ২০২৬ — গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও প্রস্তুতি

কোরবানির ঈদের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত হজ — ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। প্রতি বছর বিশ্বের ২০০ কোটির বেশি মুসলমানের মধ্য থেকে লক্ষ লক্ষ হাজি সৌদি আরবে গিয়ে এই মহান ইবাদত পালন করেন।

হজ কার উপর ফরজ?

  • মুসলমান হওয়া
  • প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া
  • সুস্থ ও সুস্থমস্তিষ্ক হওয়া
  • মক্কায় যাওয়া-আসার এবং সেখানে থাকার আর্থিক সামর্থ্য থাকা
  • শারীরিকভাবে সক্ষম হওয়া

হজের মূল রুকনসমূহ

রুকনতারিখ (জিলহজ)বিবরণ
ইহরাম বাঁধা৮ জিলহজমিকাত থেকে ইহরামের কাপড় পরিধান ও নিয়ত করা
আরাফাতে অবস্থান৯ জিলহজ (যোহর–সূর্যাস্ত)হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন — এটি ছাড়া হজ হয় না
মুযদালিফায় রাত৯–১০ জিলহজ রাতমুযদালিফায় রাত যাপন ও পাথর সংগ্রহ
কোরবানি ও মাথা মুণ্ডন১০ জিলহজমিনায় পশু কোরবানি এবং মাথা মুণ্ডন/চুল ছাঁটা
তাওয়াফে যিয়ারত১০–১২ জিলহজকাবা শরিফের চারপাশে সাত চক্কর
সাঈতাওয়াফের পরসাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাত চক্কর
রমি (পাথর নিক্ষেপ)১০, ১১, ১২ জিলহজজামারায় শয়তানকে পাথর মারা

বাংলাদেশ থেকে হজ নিবন্ধনের তথ্য

বাংলাদেশ সরকারের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের মাধ্যমে হজের নিবন্ধন করা যায়। সরকারি ওয়েবসাইট: hajj.gov.bd — এখানে প্যাকেজ, ফি পরিশোধ, বায়োমেট্রিক এবং ভিসা সংক্রান্ত সব তথ্য পাবেন।

হজে যাওয়ার আগে যা করবেন

  • ✅ হজের ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত ভালোভাবে শিখুন
  • ✅ আরবি দোয়া ও তালবিয়াহ মুখস্থ করুন
  • ✅ শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করুন — প্রচুর হাঁটতে হয়
  • ✅ টিকা নিন (মেনিনজাইটিস টিকা বাধ্যতামূলক)
  • ✅ পাসপোর্ট, ভিসা ও হজ কার্ড আগেভাগে প্রস্তুত করুন
  • ✅ পরিচয়পত্র সবসময় সাথে রাখুন

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

কোরবানি ২০২৬ কত তারিখে বাংলাদেশে?

বাংলাদেশে কোরবানির ঈদ ২০২৬ সালে সম্ভাব্যভাবে ২৭ মে ২০২৬ (বুধবার) তারিখে পালিত হবে। সরকার ২৫–৩১ মে পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে। চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে তারিখ পরিবর্তন হতে পারে।

কোরবানির গরুতে কতজন ভাগ দেওয়া যায়?

গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ ৭ জন ভাগে কোরবানি দিতে পারেন। ছাগল, ভেড়া বা দুম্বায় মাত্র ১ জনের কোরবানি হয়।

কোরবানির নিয়ত কি মুখে বলতে হয়?

নিয়ত মূলত অন্তরের বিষয়। মুখে বলা জরুরি নয়, তবে বলা উত্তম। মনে মনে স্থির করুন যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এই পশু কোরবানি দিচ্ছেন।

মহিলারা কি কোরবানি দিতে পারেন?

হ্যাঁ। মহিলারাও কোরবানি দিতে পারেন এবং নিজে জবাই দিতেও পারেন। সামর্থ্যবান মহিলার উপরও কোরবানি ওয়াজিব।

কোরবানির গোশত কি ফ্রিজে রাখা যাবে?

হ্যাঁ, পুরো গোশত ফ্রিজে সংরক্ষণ করা জায়েজ। আগে তিন দিনের বেশি রাখার নিষেধাজ্ঞা ছিল, কিন্তু পরে হাদিসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই নিষেধ রহিত হয়ে গেছে।

অনলাইনে কোরবানির পশু কেনা কি জায়েজ?

হ্যাঁ, অনলাইনে পশু কেনা জায়েজ — যদি পশু সঠিকভাবে দেখা ও যাচাই করা যায় এবং পশুর বিবরণ সঠিক হয়।


শেষ কথা

কোরবানি শুধু একটি পশু জবাই নয় — এটি আল্লাহর প্রতি আমাদের আনুগত্য, ভালোবাসা ও ত্যাগের প্রতীক। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন:

“আল্লাহর কাছে কোরবানির গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না, বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।”
— সূরা আল-হজ (২২:৩৭)

সঠিক নিয়মে, বিশুদ্ধ নিয়তে এবং পরিপূর্ণ আন্তরিকতায় কোরবানি করুন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের কোরবানি কবুল করুন এবং হজকারীদের হজ মাবরুর দান করুন।

আমিন, ইয়া রাব্বাল আলামিন।

ইসলাম সম্পর্কে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।
ধন্যবাদ

Scroll to Top